Skip to main content

রাজ্যপাল অপমান করেছেন বললেন মমতা

আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রশ্ন তুলে রাজ্যপাল তার সঙ্গে মঙ্গলবার যেভাবে কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ জন্য রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মমতা। গত দু’দিন ধরে উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে যে সাম্প্রদায়িক হিংসার খবর আসছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন রাজ্যপাল। ফোনে রাজ্যপাল তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং অত্যন্ত অপমানজনক ভাষায় কথা বলেছেন বলে মমতা।
তিনি বলেন, জীবনে কোনোদিন এত অসম্মানিত হইনি।
ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ব্লকের রুদ্রপুর এলাকায়। গত দু’দিনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের স্বরূপনগর, বসিরহাট, হাসনাবাদ, হাড়োয়া, দেগঙ্গা ব্লকেও। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তাতেই সাম্প্রদায়িক হিংসা দ্রুত ছড়াচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়েই মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি তার সঙ্গে অত্যন্ত অপমানজনক ভাষায় কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, রাজ্যপাল আমাকে ফোন করে যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে আমি অত্যন্ত অপমানিত হয়েছি। এত অসম্মানিত হয়েছি যে, তারপরে এক সময় আমি ভাবছিলাম ছেড়ে চলে যাবো। তিনি বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বসে থাকার জন্য এখানে আসিনি। এই চেয়ার নিয়ে আমি ভাবি না। আমি শুধু মানুষের চেয়ারটাকে মানি।
তিনি আরো বলেন, ‘রাজ্যপাল এমনভাবে কথা বলেছেন, যেন তিনি বিজেপির একজন ব্লক সভাপতি। ক্ষোভ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি রাজ্যপালের দয়ায় এখানে আসিনি। বিজেপি, সিপিএম বা কংগ্রেসের দয়ায় আমি মুখ্যমন্ত্রী হইনি। মানুষ আমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা কারো চাকর-বাকর নই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যপাল নিজের এক্তিয়ার লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাজ্যপালকে বলেছি, আপনি আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন না।
কেশরীনাথ ত্রিপাঠি বিজেপির কথায় কাজ করেন এবং সব সময় বিজেপির হয়েই কথা বলেন বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন।

Comments

Popular posts from this blog

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন আর নেই

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন (৭৭) বুধবার ভোরে ভারতের মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। Click Here ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিহংহ-হালুয়াঘাটের এই আওয়ামী লীগ নেতা কিছুদিন ধরে মুম্বাইয়ের ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বুধবার ভোরে তার মৃত্যুর খবর দেশে আসে বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান। গারো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রমোদ মানকিন জাতীয় সংসদে ময়মনিসংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন চার বার।    তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত এই নেতার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এক গারো খ্রিস্টান পরিবারে প্রমোদ মানকিনের জন্ম। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগে দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন তিনি। 

সাইবার হামলা মোকাবেলা বড় চ্যালেঞ্জ

ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, এই মুহূর্তে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের যেকোনো ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান কিংবা দেশের জন্য সাইবার হামলা মোকাবেলা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। সোমবার সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য নূরুল ইসলাম মিলনের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বপুর্ণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশকিছু সাইবার হামলার শিকার হয়েছি। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের অনেক উন্নত আধুনিক এবং যারা এই সাইবার জগতে নেতৃত্ব দেয় সেইসব দেশগুলোও মারাত্বকভাবে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।’ জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এই মুহূর্তে কোন ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে হলে আর সশস্ত্র হামলা চালানোর প্রয়োজন নেই। সাইবার হামলা চালিয়েই যে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের ক্ষতি করা সম্ভব। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন যখন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন তারপর থেকেই বাংলাদেশে ডিজিটাইজেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আস্তে আস্তে যতবেশি ডিজিটাইজেশন হয়, ত...

গুণীজনদের সংবর্ধনা দিল ডিরেক্টরস গিল্ড

এক অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ডিরেক্টরস গিল্ড। নির্মাণের সঙ্গে জড়িত নানা গুণীজনদের উৎসবমুখর পরিবেশে সংবর্ধনা দিয়েছে টেলিভিশন নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড। সংগঠনের গুণীজনদের সংবর্ধনা দেয়ার জন্য প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করে নাট্য নির্মাতাদের এই সংগঠন।মূলত এই সংগঠনের সদস্য যারা একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তাদের সম্মান জানাতেই এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানালেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবীন-প্রবীণ নির্মাতা, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, নাট্য ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও শুভানুধ্যায়ীরা। শুক্রবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীর একটি কনভেশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে বেশ কয়েকজন গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। মূলত ডিরেক্টরস গিল্ডের যে সকল সদস্য (জীবিত ও মৃত) এযাবৎ স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সেই সকল গুণী ব্যক্তিত্বকে এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে। সম্মাননা প্রদান শেষে সবাইকে নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডিরেক্টরস গিল্ডের প্রয়াত সদস্যদের প্রতি ...